জমিসহ ঘর পাচ্ছেন সেই আসপিয়া, ‘তবুও যদি চাকরিটা হয়’

Date:

Share post:

নিজ যোগ্যতায় সবস্তর উত্তীর্ণ হয়েও ভূমিহীন হওয়ায় চাকরির স্বপ্ন ভাঙতে যাওয়া বরিশালের হিজলার কলেজছাত্রী আসপিয়া ইসলামের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বহু নেতা এবং উপজেলা প্রশাসন তাকে সমবেদনা জানিয়েছে।

আসপিয়ার পরিবারকে হিজলায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জমিসহ একটি ঘর দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অপরদিকে ভূমিহীন আপপিয়াকে জেলার যেকোনো স্থানে ৫ শতাংশ জমি কিনে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন জেলা জাতীয় পার্টির এক শীর্ষ নেতা। বাকেরগঞ্জের এক কলেজ শিক্ষকও তার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে আসপিয়াকে ৫ শতাংশ জমি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মানবিক কারণে আসপিয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার।

‘সাত স্তরে উত্তীর্ণ হয়েও শুধু ভূমিহীন হওয়ায় চাকরি হচ্ছে না কলেজছাত্রী আসপিয়া ইসলামের’ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন খবর ভাইরাল হয় গত বৃহস্পতিবার। ওইদিন সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আসপিয়াকে ফোন করে তার ব্যক্তিগত নানা তথ্য এবং পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষার প্রবেশপত্র নেওয়া হয়। ওই রাতেই ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানী আসপিয়াকে ফোন করে সমবেদনা জানান এবং তার প্রবেশপত্রের কপি নেন। এ ছাড়া রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনজীবী নেতারা ফোন করে আসপিয়ার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সকালে আসপিয়াকে ডেকে নিয়ে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে জমিসহ একটি ঘর দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বকুল চন্দ্র কবিরাজ।

আসপিয়ার পূর্বপুরুষের আদি ভিটা ভোলার চরফ্যাশনে হলেও সেখানে উত্তরাধিকার সূত্রে এখন পর্যন্ত কোনো সম্পদ ভোগ-দখল করেন না বলে জানিয়েছেন তার মা ঝর্না বেগম। পূর্বপুরুষের ভিটায় তাদের কোনো ঘরও নেই। নেই কোনো যাতায়াত।

হিজলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না-গোবিন্দপুর এলাকায় এই ঘরে ৩ দশক ধরে বসবাস করে আসছে আসপিয়ার পরিবার

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেছেন, ৩ দশক ধরে হিজলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না-গোবিন্দপুর এলাকায় বসবাস করে আসপিয়ার পরিবার।

বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন হাওলাদার বলেন, ‌‘জন্মসূত্রে আসপিয়া হিজলার বাসিন্দা। তাদের পরিবারের সকলে হিজলার ভোটার। মানবিক কারণে আসপিয়াকে যোগ্যতা বলে চাকরি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, ‘জমি না থাকায় আসপিয়ার চাকরি হচ্ছে না’ এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার স্থায়ী ঠিকানার জন্য আসপিয়াকে হিজলার আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরূপ জমিসহ একটি ঘর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সকালে আসপিয়াকে ডেকে ঘর দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিকালে তাকে ঘরের সম্ভাব্য জমি দেখানো হয়। তবুও যদি তার চাকরিটা হয়।’

এদিকে আসপিয়াকে স্থায়ী ঠিকানাসহ তার চাকরির নিশ্চয়তার জন্য জেলার যেকোনো গ্রামে ৫ শতাংশ জমি কিনে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন তাপস। গতকাল বিকালে ফোন করে আসপিয়াকে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই দিন বিকালে আসপিয়াকে ফোন করে তার চাকরির নিশ্চয়তার জন্য নিজের পৈত্রিক সম্পদ থেকে ৫ শতাংশ জমি দেওয়ার ঘোষণা দেন বাকেরগঞ্জের রোকনউদ্দিন ইসলামিয়া সালেহিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. নূর-ই আলম মিন্টু। ইতালি প্রবাসী এক বাংলাদেশিও গত বৃহস্পতিবার রাতে আসপিয়াকে স্থায়ী ঠিকানার জন্য জমি কিনে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে ন্যায্য অধিকার আদায়ে আইনি লড়াইয়ে আসপিয়ার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন সুপ্রিম কোর্টের দুইজন আইনজীবী। প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণও আসপিয়ার চাকরি না হলে অনশন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে বরিশালের পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশে নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশন এখনো চলছে। এখানে কোনো মানবিকতার বিষয় থাকলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’