রাজনৈতিক নয়, ‘৭১ এর হার ছিল ‘সামরিক ব্যর্থতা’; সাবেক সেনাপ্রধানের দাবি নাকচ বিলাওয়াল ভুট্টোর

Date:

Share post:

পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবারও ঘুরেফিরে এসেছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। গত সপ্তাহে দেশটির সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার দাবি ছিল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হারে সেনাবাহিনীর কোনো দায় নেই। এটি ছিল রাজনৈতিক ব্যর্থতা। তবে তার সে মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি। তার দাবি, রাজনৈতিক নয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পরাজয় ছিল ‘সামরিক ব্যর্থতার’ ফল। খবর ডনের।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) ৫৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক সমাবেশে এ কথা বলেন বিলাওয়াল ভুট্টো। তিনি হলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতি এবং বেনজির ভুট্টো ও সাবেক পাক প্রেসিডেন্ট আশরাফ আলী জারদারির ছেলে। বর্তমানে পিপিপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি এবং একই সাথে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদও সামলাচ্ছেন এই নেতা।

বুধবারের সমাবেশে সাবেক সেনা প্রধানের দাবি নাকচ করে বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, ১৯৭১ সালে ঢাকা পতনের পেছনে দায়ী ছিল সামরিক ব্যর্থতা। আর এই ব্যর্থতাই জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পিপিপি দলের সামনে বিশাল বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আমার দাদার (জুলফিকার আলী ভুট্টো) সামনে তখন ‘বিচ্ছন্ন দেশ’ ও ‘হারানো গৌরব’ পুনরুদ্ধারের এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয় সামরিক ব্যর্থতার কারণেই।

বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, যুদ্ধের পর যখন জুলফিকার আলী ভুট্টো সরকারের দায়িত্ব নেন, তখন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ একেবারেই ভেঙে পড়েছিল, সকলেই সম্পূর্ণভাবে আশাহত হয়ে পড়েছিল। তবে তিনি শক্ত হাতে জাতিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করেছেন, মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন। একই সাথে যুদ্ধে বন্দি হওয়া পাকিস্তানের ৯০ হাজার সৈন্যকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলেন তিনি। এসব সৈন্যরা অবশেষে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে গিয়েছিল। আর এসবই সম্ভব হয়েছে রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ঐক্য ও প্রত্যাশার মাধ্যমে।

এর আগে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার বাজওয়া মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে কথা বলেন। তার দাবি ছিল, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পরাজয় ছিল রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল। সেখানে সামরিক কোনো ব্যর্থতা ছিল না। বরং যুদ্ধে পাকিস্তানের সেনারা বীরদর্পে লড়েছে। কিন্তু জাতি তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা দেয়নি।

মুক্তিযুদ্ধে আত্মসমর্পণ করা সেনা সদস্যের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জেনারেল বাজওয়া। তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধরত সেনাবাহিনীর সংখ্যা মোটেও ৯২ হাজার ছিল না। সেই সময় মাত্র ৩৪ হাজার সেনা সদস্য ছিল, বাকিরা ছিল বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও আমলা। আর এই ৩৪ হাজার সেনাবাহিনীকে যুদ্ধ করতে হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় সেনাবাহিনী আর ২ লাখ প্রশিক্ষিত মুক্তিবাহিনীর সাথে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ প্রথম টেনে এনেছিলেন পিটিআই নেতা ও সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এক দলীয় সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ‘৭১ এর যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মানুষ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের সাথে অন্যায় করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। সরকারের বিরুদ্ধে পিটিআইয়ের লড়াইকে তিনি বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামের সাথেও তুলনা করেন। আর এরপর থেকেই মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে কথা চালাচালি।